সব

উভয় সংকট, মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যত টা প্রয়োজন, বাকি টা আসক্তি!

| শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১ | 303 বার পড়া হয়েছে
উভয় সংকট, মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যত টা প্রয়োজন, বাকি টা আসক্তি!

আহমাদ আব্দুল্লাহ :  আজকের পৃথিবীতে এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে যে- সে মোবাইল ব্যবহার করেনি কিংবা মোবাইল বা ইন্টারনেটের নাম শুনেনি। আজ থেকে দু’দশক পূর্বের হয়তো এমন লোক পাওয়া খুব কষ্টকর হতো না। কিন্তু আজ আমাদের সমাজে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে মোবাইল এবং ইন্টারনেটর সুবিধা ভোগ না করা মানুষের সন্ধান পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই পৃথিবীতে আমরা প্রায় ৮০০ কোটি মানুষ বসবাস করি, এর মধ্যে সাড়ে চারশত কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ভাবে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও অবশিষ্টরা পরোক্ষভাবে এ থেকে কোন না কোন সুবিধা ভোগ করেন কিংবা মোবাইল এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহারের বিড়ম্বনা শিকার হোন। বর্তমান সময়ে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে যতো জরিপ হয়েছে সে সব জরিপের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই নতুন করে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। উল্লেখ্য প্রথম দিকে ইন্টারনেটের ব্যবহার কেবল মাত্র কম্পিউটারে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন কম্পিউটার থেকে মোবাইল ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাই অধিক। বর্তমান শতাব্দীর শুরুর দিকে মোবাইলের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোও একই সময়ে ডেভেলপ হতে শুরু করে এবং এই শতাব্দীর শুরু দিকে হাতে গোনা কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকলেও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হলে রীতিমতো খাতা কলম নিয়ে হিসাবে বসতে হবে। এদের প্রত্যেকটা সাইট’ই একে অপরের চেয়ে আলাদা এবং ব্যতিক্রম, দৃষ্টি নন্দন; আকর্ষণীয় ফিচার নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হচ্ছে, এবং হালনাগাদ হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। সময় সময় মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে নতুন নতুন ফিচার সংযুক্ত করে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মালিক পক্ষ সর্বশক্তি প্রয়োগ করে যাচ্ছে। এতে করে এসব সাইটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তুর্কি কর্তৃপক্ষ বিপ নামে নতুন সাইট চালু করলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শুধু বাংলাদেশই বিশ লাখের অধিক ডাউনলোড করার যে হিসাব দেখা যাচ্ছে তাতে অনুমান করা যায় কত দূরত্ব একেকটা নতুন সাইট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে আমাদের দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ষোলো কোটি। এই বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় দশ কোটির মতো। এসব ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। অন্যান্য প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে সারা পৃথিবীতে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪.৬৬ বিলিয়ন। এই বিশাল জনসংখ্যা গড়ে প্রত্যেকই প্রতিদিন সাত ঘন্টা করে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন নিয়মিত। যদিও অন্য জরিপে বলা হচ্ছে ৬ ঘন্টা ৪৩ মিনিটের কথা তথাপি ছয় থেকে সাত ঘন্টা এটা প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায়। এবং উভয় জরিপের মধ্যে গড়ে ব্যবহার করার সময়ের পার্থক্য তেমন না। এই বিলিয়ন সংখ্যার ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ৪.১৪ বিলিয়ন লোক কোন না কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেইসবুক, টুইটার, হোয়াটসআ্যাপ, ইমু, ভিগু, ভাইরার, স্কাইপ, লাইন, ইউটিউব, ইন্সট্রগ্রাম, স্ন্যাপচেট, বিপ, জুম, গুগল ডিউ, টিকটক এবং গেইমস ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। অনেকে আবার একাধিক সাইটে একাউন্ট খোলে রেখেছেন। ইন্টারনেট ব্যবহারের জনসংখ্যার বিচারে যথাক্রমে চিন, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবার শীর্ষে। মহাদেশের হিসাবে এশিয়া মহাদেশে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বাধিক। কারণ এশিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো মহাদেশ এবং এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে অধিক মানুষের বসবাস। এজন্য এশিয়া কে পৃথিবীর বাজার বিবেচনা করা হয়। এদিক থেকে বহুজাতিক পুঁজিবাদী কম্পানি গুলোর দৃষ্টি এশিয়ার ঘনবসতি পূর্ণ দেশের দিকে একটু বেশি সজাগ এবং সচেষ্ট থাকে সব সময়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দিক থেকে শীর্ষে থাকা দেশ দুটির অবস্থান আমাদের এশিয়া মহাদেশে’ই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদনে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে তা যেমন আশা জাগানোর মতো বিষয় তেমনই গভীর উদ্বেগের কথাও বটে। এতে করে সচেতন সমাজে যে সরল প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে তা হলো মোবাইল এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার কেবল প্রয়োজনে না কি আসক্তির কারণে ? মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুফল এখন ব্যবহারকারী কারো অজানা বিষয় নয় নিশ্চয়। এসব ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা সকলেই ইতিপূর্বে অবগত হয়েছি যে মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আমরা ব্যক্তিগত ভাবে কি কি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারি এবং আমরা এই অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো কিভাবে আমাদের সামাজিক জীবন এবং রাজনৈতিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যক্তি জীবনে তথ্য আদান-প্রদান এবং ব্যবসায়ী কাজ কর্মে অনেক আগেই এসবের প্রভাব এবং সুযোগ-সুবিধা আমরা অনুভব এবং উপভোগ করলেও সামাজিক জীবনে প্রভাব, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সামাজিক বিপ্লবের ক্ষেত্রে এসবের প্রভাব সর্বপ্রথম আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিগত দশকের প্রথম দিকে আরব বসন্তের সময়। তখন প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসীর টনক নড়ে মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শক্তি সম্পর্কে। এর পরে ক্রমান্বয়ে অন্যান্য দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আরো অনেক প্রভাব দেখা যায়। মোবাইল, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মোবাইলে ইন্টারনেটের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবন কে সহজ এবং গতিশীল করেছে একথা সর্বজন স্বীকৃত। এসব প্রযুক্তির উন্নতির ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তথ্য আদান প্রদান করা যাচ্ছে আলোর গতিতে, মানে খুব দ্রুত। করোনার বৈশ্বিক মহামারীর সময় মোবাইল এবং ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে একথা

অস্বীকার করার কোন সুযোগ আমাদের নাই। মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই কেবল এই মহা বিপদের সময় আমাদের কে একে অন্যের সাথে সংযুক্ত রেখেছে। পৃথিবীর সব দেশে করোনা ভাইরাসের প্রসার ঠেকাতে যতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তাতে মোবাইল ইন্টারনেট কে আবশ্যিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সঙ্গরোধের সময় মোবাইল আমাদের ভাব আদান প্রদান এবং অভিজ্ঞতা শেয়ারের একমাত্র মাধ্যম ছিলো। আমরা বেশ ভালো ভাবে তা উপলব্ধি করেছি। দ্রুত বর্ধনশীল করোনা ভাইরাসের আক্রমণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়া এতো অল্প সময়ের মধ্যে হয়তো একাজ কোনভাবেই সম্ভব হতো না। এদিকে বিশ্বের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম গুলো মানুষের কাছে দ্রুত সংবাদ পৌঁছানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সংবাদ পরিবেশন করছে। এতে করে মূহুর্তের মধ্যে যে কোন সংবাদ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে, অপরদিকে যেসব দূর্গম এলাকায় সংবাদ কর্মী সহজে পৌঁছাতে পারে না কিংবা তাৎক্ষণিক খবর সংগ্রহ করা সম্ভব হতো না তাও সম্ভব হচ্ছে মোবাইল এবং মোবাইল ইন্টারনেটর কল্যাণে। আমারা দেখেছি ধর্ষণের মতো অপরাধ যা কেউ জানতো না বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে আইনের আশ্রয় নিয়ে ধর্ষকদের কে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়েছে আমাদের দেশে । উদাহরণ হিসেবে এক্ষেত্রে নোয়াখালী ঘটনা বলা যায়। মোবাইল এবং ইন্টারনেট এর কারণে ব্যাংকিং খ্যাতে এখন লেনদেন করা সহজ হয়েছে। ব্যাংক গুলো এখন মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছে, এতে করে ঘরে বসে মোবাইল এবং ইন্টারনেটর ব্যবহার করে দেনা যেমন পরিশোধ করা যাচ্ছে তেমনি পাওনা আদায় করা সহজ হয়েছে। পণ্য ক্রয়-বিক্র সহজ হয়েছে। আমরা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় যে কোন পণ্য এখন ক্রয় করতে পারি যেকোন সময়। এই তালিকায় সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ এবং বিনোদন সামগ্রী সব’ই আছে। বিনোদন জগতের সব উপকরণ এখন নেটে আছে। ইউটিউব সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিলিয়ন সংখ্যার কন্টেন্ট আছে যা প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বারবার উপভোগ করতেছে এবং পৃথিবীর যেকোন ভাষায় তা সার্চ করে পাওয়া যায়। ইন্টারনেট ভিত্তিক গেইমস এর অভাব নাই যা মোবাইলেও প্লে করার উপযোগী। শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের জুড়ি মেলা ভার। সকল গবেষণার ফলাফল, জরিপ প্রতিবেদন, বিখ্যাত লিখকদের প্রবন্ধ এবং বই পুস্তকের নব্য হাট হলো ইন্টারনেট। এখন পিডিএফ বই যা মোবাইলে পাঠ উপযোগী এসবের চাহিদাও কম না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তাদের কোর্স চালু করেছে। করোনার সময়ে অনেক দেশে ইন্টারনেট ভিত্তিক পাঠদান চালু করা হয়েছে। বাচ্চারা ঘরে বসে শিখতে পারছে।



যাতায়াত ব্যবস্থায় আমাদের এই বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে ইউবার, তারা যেমন যাত্রীদের হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে বাহন, বলা যায় আঙুলের স্পর্শের মধ্যে; তেমনই বাহন চালকদের কে দিতেছে নতুন যাত্রীর সন্ধান সেই সাথে যানজট মুক্ত রাস্তার খবর। দেশে দেশে এরকম আর অনেক প্রতিষ্ঠান সফল ব্যবসা করতেছে যাত্রী সেবা খ্যাতে। আমাদের দেশে পাঠও এখন মিলিয়ন ডলার ভ্যালুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যা ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা যা বাহন, চালক, যাত্রী এবং গন্তব্য কে সংযুক্ত করেছে। প্রস্তুত করা খাদ্য সরবরাহে তালাবাত মধ্যপ্রাচ্যে অনেকটা একক আধিপত্য বিস্তার করে আছে। বিশ্ব ব্যাপি অনলাইন ভিত্তিক বাজার এবং পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আমাজন এবং আলিবাবার নাম উল্লেখ করতে হয়। এসব সাইটে কি পাওয়া যায় না এটা জিজ্ঞাস করাই সহজ প্রশ্ন। চিকিৎসা থেকে শুরু করে কৃষি পর্যন্ত সব বিষয়ে তথ্য প্রচার হচ্ছে ইন্টারনেটে। মানুষ এখন করোনা থেকে নিরাপদ থাকার কৌশল আয়ত্ত করতে যেমন ইন্টারনেট সার্চ করে তেমনই কোন মৌসুমে কোন ফসল ভালো হয় এবং সবজি চাষে কলাকৌশল কিংবা কৃষিতে সমন্বিত চাষ কি অথবা এর উপকারীতা কি এবং কিভাবে অল্প জায়গা বহুবার ব্যবহার করে অধিক লাভবান হওয়া যায় এ সব মানুষ এখন ইন্টারনেট থেকে জানতে চায়। মোবাইল হয়ে উঠেছে আমাদের ঠিকানা এবং ঠিকানা খুঁজে পাওয়া উত্তম পন্থা। এর সাথে এখন গুগল ম্যাপ মানুষকে পৌঁছে দিচ্ছে নির্ভুল গন্তব্যে। আমরা ভুলেও ঘর থেকে মোবাইল ভুলে বাহিরে পা ফেলি না। কখনও মোবাইল ভুলে গেলে ফিরে আসি কেবল মোবাইলের জন্য। ঘর থেকে বাহিরে যেতে সবার আগে মোবাইল, মোবাইলের চার্জ, ব্যালেন্স, ডাটা ব্যালেন্স পরখ করে দেখি। আবার ঘরে ফিরে আসতে ব্যালেন্স, ডাটা ব্যালেন্স নিয়ে আসি। ঘরে ফিরে সবার আগে মোবাইল চার্জে লাগাই। গাড়িতে বসলে গাড়ি চালু করেই মোবাইলের চার্জার প্লাগের সন্ধান করি। মোবাইল চার্জ, ব্যালেন্স কিংবা ডাটা ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে অস্বস্তি বোধ করি। মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মারফতে মানুষ তাদের মনের উচ্ছ্বাস, আবেগ, অনুভূতি, প্রেম, ভালবাসা, স্নেহ, আদর ভাগাভাগি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মারফত মানুষ পরিচিত হয় নতুন মানুষের সাথে, বন্ধুত্ব হয়, ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে প্রেমে পড়ে অতঃপর পরিণয়ের ঘটনা এই সমাজে একেবারে বিরল নয়। জন্মদিনের শুভেচ্ছা, অভিবাদন বার্তা, প্রেমপত্র সবই এই মাধ্যমে করা হয়, চাইলে গোপনিয়তাও রক্ষা করা যায়। মানুষ অবসরে কিংবা ভ্রমণ কালে পড়ার জন্য বইয়ের পিডিএফ রাখে মোবাইলে।

মসজিদে গেলে দেখা যায় মোবাইলে’ই কোরান পাঠকের সংখ্যাধিক্য। রাতে টর্চলাইট এর পরিবর্তে মোবাইলের ফ্লাস আঁধার নিশিতে আপন বন্ধু। ঘুম থেকে জাগানোর এলার্ম, ব্যায়ামের জন্য হাঁটার গতি, রাস্তার দূরত্ব মাপা সব এখন মোবাইলে তত্ত্বাবধানে চলে গেছে। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্যাশ হিসাবের ক্যালকুলেটর এখন মোবাইলে। ছবি তোলার জন্য বহুল ব্যবহৃত ক্যামেরার স্থান দখল করেনিয়েছে ক্যামেরা যুক্ত মোবাইল। ব্যস্ত এবং রূপ চর্চাকারী নারীর ফেইস লোকিং গ্লাস এখন মোবাইলের পর্দা। বাজার করার জন্য পণ্যের ফর্দ এখন মোবাইলের নোটে কি লেখা হয়নি? তাতে কি মানুষের চাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের কাছে। বিশেষজ্ঞ রা বলছেন- ‘অবশ্যই না’। বরং প্রতিদিনই নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে গবেষণা চলছে। এখন মানুষের ইচ্ছা হলো জড় বস্তুর সাথে ইন্টারনেট সংযোগ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় করে তুলা। এটা করতে পারলে কি হবে! যদিও ইতিমধ্যে অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে যেমন এটিএম মেশিন, সেন্সর যুক্ত দরজা, অফিসে গ্রাহকদের ওয়েটিং নম্বর, সাসপেক্ট ডিটেকটর সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। উন্নত দেশে স্বয়ংক্রিয় জুস মেশিন এখন দেখা যায় যত্রতত্র । এসব মেশিনে টাকা দিলে সে নিজে থেকে কমলার জুস তৈরী করে প্যাকেট করে গ্রাহকদের সার্ভ করতেছে। অতিরিক্ত প্রস্তুতকারক, ডেলিভারি ম্যান, ক্যাশিয়ার কারো কোন প্রয়োজন হচ্ছে না। এতে করে ব্যবসায়ীর সময় এবং অতিরিক্ত শ্রমের মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে না। এখন যদি কেবল আমাদের নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিস পত্র এবং মেশিন গুলো স্বয়ংক্রিয় হয় এবং এতে যদি নেট সংযোগ করা যায় তবেই আমাদের আপাতত তৃপ্তি আসলেও আসতে পারে। এটা হলে কেমন হবে! যেমন মনে করেন ঘর থেকে বের হতে, ভুলে এসি বন্ধ করেন নাই। অফিসে গিয়ে মনে পড়েছে। এসি যদি স্বয়ংক্রিয় হয় এবং তাতে নেট কানেকশন থাকে তবে তা বন্ধ করতে পারবেন অফিসে বসেই। এখন এই কাজ রিমোট দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে করা যাচ্ছে। এরকম কাজ যেমন সিসি ক্যামেরা মোবাইল দিয়ে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এতো সব সুযোগ সুবিধা উপভোগ করার পরেও কিন্তু সম্ভাবনা এবং চাহিদা কোনটাই কমার কোন লক্ষণ নাই এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে অবশ্য চর্চা হচ্ছে অন্য কথা। মোবাইল, ইন্টারনেট সেবা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা যে সব তথ্য দিচ্ছেন তা উদ্বেগের হলেও এর বাস্তব দৃশ্য আমরা চোখ মেলিলেই দেখতে পাই। আমাদের দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ষোলো কোটি যা শুরুতে উল্লেখ করেছি এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় দশ কোটি। অনুরূপ পৃথিবীর সব দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা সমান না হলেও কোন কোন দেশ শতভাগ মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করেছে। বিশ্বব্যাপী এসব ব্যবহারকারী সংখ্যা মোট ৪.৬৬ বিলিয়ন। এদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪.১৪ বিলিয়ন। যারা নিয়মিত এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন। তাদের সংখ্যা হিসেবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। এরা গড়ে প্রতিদিন সাত ঘন্টা করে সময় ব্যয় করে মোবাইল এবং ইন্টারনেটে। এই সাত ঘটনা কেমন করে তারা ব্যয় করে এর নমুনা আশপাশের ব্যবহারকারীদের পর্যবেক্ষণ করলেই সহজে বোঝা যাবে। অনেক ব্যবহারকারী বসে বসে মোবাইল ব্যবহার করেন, তবে অধিকাংশই বিছানায় শুয়ে কিংবা কোন কিছুর সাথে হেলান দিয়ে অর্ধ শুয়া অবস্থায় মোবাইলের পর্দায় চোখ রেখে হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন, নতুবা ফ্লিম দেখেন, কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা প্রিয়জনের সাথে কথা বলেন, কেউ কেউ গেইম খেলেন। গেইমের মধ্যে অন্যতম হলো পাবজি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি আপলোড, লিখা পোস্ট করা এবং লাইক কমেন্টের সংখ্যা হিসাব করা, অন্যের লিখা কিংবা ছবিতে লাইক দেয়া, মন্তব্য করার মধ্যে ব্যস্ত সময় কাটায় তারা। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখে গেছে এসব ব্যবহারকারীরা নিজেই জানেনা কেমন করে ঘন্টার পর ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে যায়। প্রায় সকলেই আর না হলে অন্তত রাতে বিছানায় যাওয়ার পূর্বে কিংবা বিছানায় গিয়ে একবার হলেও এসব সাইটে উঁকি না দিয়ে দু’চোখের পাতা এক করেন না। এই যে একভাবে বসে থাকা কিংবা একটানা দীর্ঘ ক্ষণ শুয়ে থাকা এটা নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা মতামত দিচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে লেখার কারণে হাতের আঙুলে ব্যথা এবং পরবর্তীতে এটা অস্থি মজায় প্রভাব ফেলার সম্ভাবনার কথা বেশ উদ্বেগের সাথে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহার করার কারণে ব্যবহারকারীদের মাঝে অনিদ্রা দেখা দেয়। এবং দিনের বেলা তাদের দেহ-মনে ক্লান্তির চাপ দেখা যায় যা মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস করে, মুখের ত্বকের মধ্যে মোবাইলের উজ্জ্বল আলোর প্রভাব পড়ে, এতে করে ত্বকের শুখা ভাব দেখা দেয়। এছাড়া এসব ব্যবহারকারীদের মাঝে প্রায়ই এক ধরনের অবসাদ এবং বিষন্নতা দেখা যায়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত পর্যায়ের দুঃসংবাদ, দূর্ঘটনার ছবি এবং ভিডিও দেখার কারণে হয়ে থাকে বলে অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা। যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো সিন্সেটিভ মোড দিয়ে এসব এখন ঢেকে রাখে তথাপি এসব সেন্সেটিভ সংবাদ, ছবি, ভিডিও মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেওয়ার সময় এসব দৃশ্য দেখা গিয়েছিল; এছাড়া সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাকের মানবতার বিরোধী কর্ম কান্ডের চিত্র এবং নিউজিল্যান্ডের ক্রিস্টচার্চ মসজিদে হামলা করে অর্ধ শত মানুষ খুন করার দৃশ্য ঘতক নিজেই লাইভ সম্প্রচার করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ইদানিং অনেকে লাইভে এসে আত্মহত্যা করে যা সত্যিই মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। কিন্তু কেন এসব কাজ লাইভে এসে করতে হয়। নিশ্চয় এরা এসব করার পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেছে এবং এতে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেই এসব প্রচারের শ্রেষ্ঠ স্থান বলে মনে করেছে, না কি এটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসক্তি থেকে করে, কেবল একারণে যে- পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার পূর্বে শেষ মুহূর্তে একটু নেশা করে যাই। যত্রতত্র লাইভ প্রোগ্রাম, বারংবার স্টাটাস এবং ছবি আপলোডে যেমন ব্যক্তিগত অনেক তথ্য অন্যের কাছে চলে যাচ্ছে অনুরূপ যত্রতত্র মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার আমাদের জীবন কে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেতেছে প্রতিদিন। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কে শনাক্ত করা হয়েছে। এজন্য অনেক দেশে চালকের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তথাপি কে শুনে কার কথা। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় এক হাতে স্টারিং হুইল’ত অন্য হাতে কানে মোবাইল, এবং চালকের শূন্য দৃষ্টি সামনের দিকে হলেও ঘাড়ের উপরে থাকা থামার মাঝে যে মস্তিষ্ক আছে তা হয়তো হাজার মাইল দূরে কোন এক প্রেয়সীর চিকন আওয়াজ শুনতে ধ্যান ধরে আছে। এজন্য আমাদেরকে এমন সব দুর্ঘটনা স্বাক্ষী হতে হয় যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি আহত না হয়ে সোজা নিহতদের খাতায় নাম লেখায়। মোবাইল এবং ইন্টারনেট শিক্ষার্থীদের মনযোগ শুধু যে নষ্ট করছে তা কিন্তু না, তাদেরকে বিপথগামিও করছে অহরহ। অতি সাম্প্রতিক ঢাকায় ধর্ষণের ঘটনায় যে মেয়ে শিক্ষার্থীটি মৃত্যু বরণ করেছে তাতে তাদের মধ্যে প্রথমতঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ হলেও এটাই শেষ কথা নয়, তার মৃত দেহের ময়নাতদন্তের পরে উঠে এসেছে আরো অধিক উদ্বেগের বিষয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন এই ঘটনায় বিকৃত যৌনাচারের লক্ষণ পাওয়া গিয়েছে। এই বিকৃত যৌনাচার এটা আবার কি জিনিস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন নেটে পর্ণগ্রাফি দেখে অল্প বয়সের ছেলে মেয়েরা অধিক যৌন তৃপ্তি জন্য কৃত্রিম যৌনাঙ্গ দিয়ে যৌন সঙ্গম করে, যাকে বলে সেক্সুয়াল ফেন্টাসি। গ্রুপ স্টাডি করতে যাওয়া সেই তরুণী নাকি এই ফেন্টাসির স্বীকার। যা নেটে একটা চলচ্চিত্র ছিলো পয়সা কামানের উদ্দেশ্যে তারা আপলোড করে, আসলে এটা কোন সমাজের জন্য কোন আদর্শ না, অভিনয় করা অন্যান্য আট দশটা ফিল্মের মতো এটা একটা ফিল্ম কেবল, হিন্দি ফিল্ম স্টার সালমান খান পুলিশের পোষাক পরে অনেক অভিনয় করলে আদতে তিনি যেমন কোন পুলিশ কর্মকর্তা না, তেমনই এসব ফিল্ম বা চলচ্চিত্র’ই কেবল মাত্র, কিন্তু তা না বুঝে এসব ফিল্ম দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তা ব্যক্তি জীবনে প্রয়োগ করতে গিয়ে যে পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে তা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। ইভটিজিং, ধর্ষণ বৃদ্ধির পিছনে বিজাতিয় সংস্কৃতি এবং পর্ণগ্রাফি কে দায়ী করা হচ্ছে যা কেবল মোবাইল এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে তরুণ তরুণীদের মাঝে ছড়াচ্ছে। যদিও অনেক দেশে এসব সাইট বন্ধ রাখা হয়েছে তথাপি ভিপিএন এর সুবাদে যে কেউ যে কোন সময়ে এসব সাইটে ঘুরে আসতে পারছে অবাধে। যা তরুণ তরুণীদের চারিত্রিক নৈতিকতার অবক্ষয়ের মূল কারণ। এছাড়া পরকীয়া যা হাজারো পরিবারের অশান্তি উৎস এবং পরিবার ভাঙার কারণ মনে করা হয় তা আরও সহজ হয়ে উঠেছে মোবাইলের সুবাদে। প্রতারণার নতুন কৌশল গড়ে উঠেছে মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রীক। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে দুষ্কৃতীরা হাতিয়ে নিচে গরিব মানুষের অর্থ সম্পদ। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের রিজার্ভ চুরি ঘটনা ইন্টারনেটের আশ্রয়ে করা হয়েছে। যা বিশ্ব ব্যাপি একটি আলোচিত ঘটনাছিলো।

মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, ভুঁয়া খবর, ধর্ম অবমাননা ইত্যাদি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভাইরাল কন্টেন্ট। ভোলার ঘটনা সবার জানা আছে। শাহবাগ আন্দোলনের কর্মীরা মূলতঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটিভিস্ট ছিলো। যা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে কলকাঠি নাড়াচাড়া করতে সক্ষম হয়েছে পরে। আবার শাপলায় গণ বিষফুরণ গণজাগরণ কর্মীদের ইন্টারনেটে ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাতের প্ররিপেক্ষিতে হয়েছিল। এখানে দেখা যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেবল ব্যক্তিগত চর্চা বিষয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে গিয়েছে। এই সব বিষয়ে নজর রেখে অনেক দেশে নতুন করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আমাদের দেশে হালনাগাদ করা হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি আইন। তথাপি মিথ্যা মিথ, ভুঁয়া খবর, ব্যক্তিগত মানহানি এবং ধর্ম অবমাননা নিয়ন্ত্রণ করা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ২০১৭ সালে মধ্যভাগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যে সংকট দেখা দিয়েছিল তাও একটা ইন্টারনেট ভিত্তিক অপরাধের সূত্রে, এর প্রেক্ষিতেই তেল সমৃদ্ধ কাতারের সাথে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশর আকাশ, জল, স্থল যোগাযোগ বন্ধ করে যে সংকট সৃষ্টি করেছিল তাতে করে যে মানবিক বিপর্যয় হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো তা কাতার দক্ষতার সাথে মুকাবিলা করতে সক্ষম হলেও এই ঘটনা বিশ্ববাসীর চর্চায় ছিল প্রায় সাড়ে তিন বছর। কুয়েত, তুরস্কের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং আমেরিকার প্রচেষ্টায় বিষয়টির সুরাহা হওয়াতে সকলে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হালকা হলেন এইত গতকয়েক দিন পূর্বে। ঘটনার সূত্র একটা ভুঁয়া খবর যা কাতারের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট হেক করে প্রচার করা হয়েছিল। আমেরিকায় সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোবাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে ক্যাপিটাল হিলে হামলা করার পর জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো সাবেক প্রেসিডেন্ট যিনি তখন ক্ষমতাসীন ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেছিলো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রোপাগান্ডা এবং রায়ট নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে। আমাদের দেশে গত দশকে এই একই উদ্দেশ্যে বেশ কয়েক বার নেটের গতি কমিয়ে রাখা হয়েছে যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা মানুষ সংগঠিত হতে না পারে। ব্লাক লাইফ মেটার আন্দোলনে আই কেন্ট ব্রেথ কথাটা যেন ছিলো একটি ইলেকট্রিক সর্ট। মূহুর্তে মধ্যে আমেরিকার সীমানা পেরিয়ে ইউরোপ সহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, যা অনেক রাষ্ট্রের নীতি, শ্বেতাঙ্গবাদ এবং বর্ণ বৈষম্যের ভিত নাড়া দিয়ে গেছে। একই ভাবে বিশ্ববাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লাইভে মসজিদে বসে থাকা নিরপরাধ মানুষ কে গুলি করে মারার দৃশ্য দেখেছে। যা দেখে অনেকে মন্তব্য করেছেন তারা প্রথমে মনে করেছেন এটা কোন গেইমস মনে হয়। জানা গেছে ঐ হামলাকারি সহ আর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ চর্চা করতেন। ওখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলিম হত্যা কে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি হাজতে আছেন। অনেকেই তার এই অপকর্ম দেখে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মন্তব্য করেছেন। ইরানের এক মহিলা ইন্সট্রগ্রামে জনপ্রিয় হতে গিয়ে নিজের চেহারা বিকৃত করেছেন কসমেটিক সার্জারি করে, এখন প্রতারণা দায়ে মামলার অভিযুক্ত আসামী। আর অনেকেই এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতে গিয়ে দেহের অন্যান্য অঙ্গের পরিবর্তনে ব্যয় করেছেন বহু অর্থ। কিন্তু কেন নিজেকে সবার সামনে আকর্ষণীয় করে তুলতে এতো দৌড়ঝাপ এর কোন সদুত্তর কারও কাছে নাই, এই প্রবণতা কে মানসিক ত্রুটি হিসেবে দেখেন অনেকে। এসব মানুষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইলে গেলে দেখা যায় হাজার হাজার লাইক, কমেন্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রায় প্রতিদিনই এরকম হাজারো অনলাইন সেলিব্রিটির প্রোফাইল ঘুরে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করেন। এসব ব্যবহারকারীরা নিজেরাও দিনে একাধিক পোস্ট লিখেন ছবি শেয়ার করেন। এতে করে তাদের দিনের সিংহভাগ সময় চলে যায় এবং অবসরে পুরো সময়টাই দেখা যায় মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছেন। উদ্বিগ্নের বিষয় হচ্ছে এরকম ব্যবহারকারী সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহুজাতিক পুঁজিবাদী মুনাফা লোভী কোম্পানি গুলোও তাতে আরো হাওয়া দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সোশাল ডিলেমা নামে ডকুমেন্টারিতে এমন নানা তথ্য উঠে এসেছে, যারা তথ্য দিয়েছেন তারা দীর্ঘদিন এরকম সাইটে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন। এই একই কথা আরও অনেকে বলেছেন ইতিপূর্বে। ভারতের বহুপ্রচারিত টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের বরাতে প্রকাশ করেছে মোবাইল পুরুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ পুরুষেরা মোবাইল অধিকাংশ সময় পেন্টের পকেটে রাখে এতে করে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রনিক ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন পুরুষের প্রজননতন্ত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে যেমন শুক্রাণুর সংখ্যা এবং ঘনত্ব হ্রাস করতে পারে। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ একই ভাবে বসে কিংবা শুয়ে থাকলে ও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরাও স্বীকার করেছেন। এবং এই উভয় কাজ মোবাইল, মোবাইলে ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা করে থাকেন। যে প্রবণতা কেবল বৃদ্ধি’ই পাচ্ছে কমার কোন সম্ভাবনা বা লক্ষণ নাই। মানুষ কোন ভাবেই নিজের হাত থেকে মোবাইল নামের ইলেকট্রিক ডিভাইস টি দূরে সরিয়ে রাখতে পারতেছে না এমনকি দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারছে। যা মানুষের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। মোবাইল, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একদিকে যেমন আমাদের প্রয়োজন অন্যদিকে তেমনই ক্ষতিকর, যা আসলেই আমাদের জন্য একটা উভয় সংকট। প্রয়োজনে তাগিদে উদ্ভাবিত এসব উন্নত প্রযুক্তি যতটুকু আমাদের জন্য প্রয়োজন তা হলো যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান। এই কাজে প্রতিদিন একজন মানুষের কতটুকু সময়ে প্রয়োজন হতে পারে! এটা অনুভব করা মোটেই কঠিন কোন কাজ নয়। কিন্তু সব বিষয়ে জানার চেষ্টা, সব কিছু দেখা আগ্রহ, সকল বিষয়ে আপনার মতামত প্রকাশ করার তাগিদ, সবার সাথে যোগাযোগ করা- কথা বলা, নিজেকে অলরাউন্ড হিসেবে জাহির করার এবং নিজেকে সবার কাছে প্রকাশ করার যে চেষ্টা এতে করে মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বের হওয়ার কোন সুযোগ কারও কাছে আছে বলে মনে হচ্ছে না। যাকে বলা যায় অতিরিক্ত ব্যবহার আরও সংক্ষেপে হলো মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি ব্যবহার। এই অতি কি আসলেই প্রয়োজন না কি আসক্তি! যা নেশার মতো ছেড়ে দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেও ছাড়া যায় না, যত কম ব্যবহার করা চেষ্টা করা হয় বরং তার ব্যবহার তত বৃদ্ধি পায়। তবে কি আমরা জেনে শুনে বিষ করিতেছি পান । প্রাণের আশা ছেড়ে সঁপেতেছি প্রাণ ।।

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বহুমাত্রিক জীবন

১০ জুলাই ২০১৮ | 1120 বার পড়া হয়েছে

ভাইরালের ভয়াবহ পরিণতি

১৮ এপ্রিল ২০১৯ | 819 বার পড়া হয়েছে

০২ নভেম্বর ২০১৮ | 773 বার পড়া হয়েছে

১৫ নভেম্বর ২০১৮ | 762 বার পড়া হয়েছে

বাস্তবের সৌন্দর্যই ধ্রুব নয়

১৯ নভেম্বর ২০১৮ | 719 বার পড়া হয়েছে

আপনি পৃথিবীর  উষ্ণতা কমাতে পারেন যে ৫টি উপায়ে

১১ অক্টোবর ২০১৮ | 590 বার পড়া হয়েছে

উপদেষ্টা সম্পাদক

হাফেজ মাওলানা সাহাদাত হোসাইন

মোহাম্মদ নুরে আলম

হাফেজ মাওলানা আব্দুল হাসিব চৌধুরী

লোকমান আহমেদ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক

চৌধুরী হাসান মাহমুদ

প্রধান সম্পাদক

গোলাম রব্বানী

নির্বাহী সম্পাদক

হাফিজুর রহমান নাহিদ

বার্তা সম্পাদক

তাজ উদ্দিন আহমাদ

বিভাগীয় সম্পাদক

শাহ মাসুম খাদেম

সিএম হাসান

সম্পাদনা সহযোগী

ফয়েজুল ইসলাম চৌধুরী

আশিকুর রহমান

এনামুল হাসান চৌধুরী

যোগাযোগ: উম আল ধম রোড, মাইজার, আল রাইয়্যান, কাতার। ফোন: +974.77664095, ই-মেইল: foursidenews@gmail.com

all right reserved

design and development by: webnewsdesign.com