সব

আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় সিইসি

নির্বাচনে তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্রের শঙ্কা

হাফিজুর রহমান | শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | 807 বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনে তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্রের শঙ্কা

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তৃতীয় শক্তি ষড়যন্ত্র করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।

কে এম নুরুল হুদা বলেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে কিনা সে দিকেও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা থেকে তিনি এ নির্দেশ দেন।



এতে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের জন্যে নির্দেশ দেন। আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে বলেন,সবাইকে পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। অতি উৎসাহ বা নির্লিপ্ততা মেনে নেয়া হবে না।

ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যক্রম দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেন তিনি। কমিশনার কবিতা খানম বলেন, কোনো কারণ ছাড়া গ্রেফতার করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে। কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা ও প্রাণহানি হোক তা আমরা চাই না।নির্বাচনে ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তাদের তথ্যমতে, নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলা হচ্ছে।

মোবাইল ব্যাংকিং ও কুরিয়ার সার্ভিসের (পরিবহন) মাধ্যমে এসব টাকা লেনদেন হচ্ছে। আগামী ২০ ডিসেম্বরের পর নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা বাড়তে পারে। এছাড়া নির্বাচনে জঙ্গি তৎপরতা ও রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে ভোটের সময় মোবাইল নেটওয়ার্কের গতি ফোরজি থেকে কমিয়ে টুজিতে নামিয়ে আনা এবং ভোটের আগে তিন দিনের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধের জন্য বৈঠকে প্রস্তাব দেয়া হয়।

বৈঠকে ভোট কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নজরদারিরও প্রস্তাব দেয়া হয়েছেে । এবং বৈঠকে অংশ নেয়া কয়েকজন ডিসি, পুলিশ এবং নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিটার্নিং ও নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিইসি। এ সভায় সিইসির স্বাগত বক্তব্যের সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।

স্বাগত বক্তব্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ঘটনাগুলো কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন সিইসি । তিনি বলেন, তখন ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার আলোকে আমাদের এবারের নির্বাচনের প্রস্তুতির রূপরেখা ও কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, তখন মাঠে সব বাহিনী ছিল। সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি সবাই ছিল। তবুও আমরা কি দেখেছিলাম! পুলিশ সদস্য, প্রিসাইডিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেটসহ শত শত মানুষ নিহত হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচন ঘিরে যখন স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখনই খুন এবং হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। দেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হোক এটা চায় না এমন প্রভাবশালী মহল সক্রিয় থাকতে পারে। তাদের বিষয়ে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সমাজের সচেতন মহল ও জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।

নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, আমরা শঙ্কাগুলো অবহেলা করতে পারি না। যেদিন প্রতীক বরাদ্দ হল তার পরের দিনই দুর্ঘটনা। ঘটনাগুলো যত ছোটই হোক, দুটো জীবন চলে গেছে, দুটো জীবনের মূল্য অনেক। কিন্তু কেন হল,কিভারব হল? তারপর এখানে-ওখানে ভাংচুর হচ্ছে। এগুলো প্রতিহতের  চেষ্টাও চলছে। তিনি বলেন, এগুলোর পেছনে কি রাজনৈতিক, সামাজিক কারণ আছে, নাকি সেই ২০১৪ সালের মতো ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে তা খুঁজে বের করতে হবে। ঘটনাগুলোর ওপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্ক নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর একজনের দোষ আরেকজনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হালকাভাবে নিলে হবে না। রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক অবস্থান নেয়ার প্রয়োজন। এর মধ্যে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্র আছে কিনা খতিয়ে দেখতে হবে। এজন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক নজর রাখতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আপনাদের দায়িত্ব জনগণের জীবন ও মালামাল রক্ষা করা। দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। আমি আশা করব নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্বপালনে আপনাদের যে অভিজ্ঞতা এবারের নির্বাচনে তা কাজে লাগবে। ভোটের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সব বাহিনীর কৌশল ঠিক করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বেশি তথ্য-উপাত্ত থাকে। এগুলো কাজে লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ছক তৈরি করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে এবং এতে বিজিবিকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন হবে। কারণ এতে তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি বাড়াতে হবে। নারী ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলাদাভাবে খেয়াল রাখবেন; যাতে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। প্রত্যেক এলাকার মাস্তান ও গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের তালিকা এখন থেকেই তৈরি করতে হবে।

যেটা আপনারা সব সময় করে থাকেন। ভোটের ভাগ্য সন্ত্রাসীদের হাতে দেয়া যাবে না। সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদের আটক করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের সহিংস অবস্থার কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার ছক তৈরি করতে হবে।

বিনা কারণে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। কারও বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা যাবে না। সংঘবদ্ধভাবে প্রজাতন্ত্রের সব বিভাগ নির্বাচনের দায়িত্বে সম্পৃক্ত হয়েছেন। সংবিধান ও আরপিওর বলে, এখন সব দায়িত্ব আপনাদের কাছে। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব সবার। এজন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, দেশের নাগরিকদেরও সম্পৃক্ত থাকার জন্য অনুরোধ করব।ইভিএম প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এবার আমরা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করতে চাই। বাক্স ছিনতাইকারীদের হাত থেকে ভোটারদের মুক্তি দিতে হবে। এজন্য বর্তমানে যে পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে তা পরিবর্তন করে নতুন পদ্ধতি আনতে হবে। নির্বাচন কমিশন মনে করে ইভিএম সে রকম একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ভোটারদের ভোটের নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব হবে। আমরা ছয়টি এলাকায় ইভিএম ব্যবহার করতে যাচ্ছি। সে ছয়টি এলাকায় যার যার দায়িত্ব তাদের অনুরোধ করব, সেগুলোর দিকে আলাদাভাবে নজর দিন। সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন- আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন ও সব প্রার্থীর জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। আপনারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রার্থী ও ভোটাররা ভোট দিয়ে যাতে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। অতি উৎসাহ বা নির্লিপ্ততা যেন না দেখি- সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান দেখতে চাই।

আরেক নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, মাঠে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে না পারলে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক বলা যাবে না। কোনো কারণ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করলে সেজন্য জবাবদিহি করতে হবে। সবার প্রতি আইনের প্রয়োগ অভিন্ন হতে হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, কেন ও কিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে- তা রিটার্নিং অফিসাররা জানেন না; তাহলে কিসের সমন্বয় হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটার ও জনগণ সবাই ইসির দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের প্রশ্ন আমরা ভোট দিতে পারব কিনা, ভোট দিয়ে ফিরে আসতে পারব কিনা? আমাদের কথা হল ইসির ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, আইনানুগভাবে প্রার্থীরা যেন প্রচার চালাতে, ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারেন। কোনো প্রকার সহিংসতা ও প্রাণহানি হোক তা আমরা চাই না। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহিত না হতে পরামর্শ দেন।

স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, নির্বাচনে মোবাইল ব্যাংকিং ও বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে টাকার লেনদেন হয়। এসব খেয়াল রাখতে হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন।

বৈঠকে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা তোলা হচ্ছে, টাকাগুলো কোথায় যাচ্ছে, কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিভিন্ন পরিবহনের (কুরিয়ার) মাধ্যমে টাকা লেনদেন হচ্ছে কিনা, তা দেখতে হবে। বৈঠকে শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, নির্বাচনে কিছু জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতে পারে। ভোটের মাঠেও কেউ  রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হতে পারে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের এসপিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। কর্মকর্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা নির্বাচন বানচাল করার জন্য কয়েক হাজার ক্যাডার ঢাকায় আনার পরিকল্পনা করেছে। এসব সংগঠন যেন কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

বৈঠকে কর্মকর্তারা বলেন, আমরা অবশ্যই নির্বাচন কমিশন যে নিদের্শনা দেবে সে অনুযায়ী কাজ করব। পাবর্ত্য এলাকায় ঝামেলা বিদ্যমান; সেখানের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকার জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখতে হবে।

তারা বলেন, সাইবার ওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত করে গুজব ছড়িয়ে কেউ যাতে নির্বাচনী পরিবেশ বানচাল করতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। বিটিআরসির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে। তারা ভোটের সময় তিন দিনের জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি থেকে নামিয়ে টুজিতে আনার প্রস্তাব করেন। নির্বাচনে র‌্যাব সদস্যদের ১০ দিন মাঠে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়।

নির্বাচনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি থেকে টুজিতে নামিয়ে আনার একই প্রস্তাব করেন একটি সংস্থার মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ভোটের সময়ে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা গ্রহণ করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখা দরকার। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান বৈঠকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রচুর টাকা আসছে। নির্বাচনে টাকার লেনদেন বন্ধে ভোটের দুই দিন আগে মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধের পরামর্শ দেন তিনি। জঙ্গিরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন তিনি। প্রার্থীদের ওপর হামলার শঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বৈঠকে বলেন, অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে, তাদের বিষয়ে ইসির নির্দেশনা চান তিনি। এর জবাবে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আরেক পুলিশ কর্মকর্তা ভোট কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাব দেন। একটি কেন্দ্রে কতজন সাংবাদিক একই সঙ্গে ঢুকতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে দিতে ইসিকে অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, সাংবাদিকদের জন্য একটি নীতিমালা রয়েছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী তারা চলবেন। আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ২০ ডিসেম্বরের পর সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। ভোট কেন্দ্রের পাহারার নামে সহিংসতা হতে পারে। তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেয়া আছে।

বৈঠকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে। তিনি বলেন, ভোটের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি থেকে কমিয়ে টুজি করার প্রস্তাব এসেছে। তবে কমিশন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আপাতত আমাদের এমন কোনো সিদ্বান্ত নেই। বৈঠকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, এটাকে আসলে নিয়ন্ত্রণ বলা যাবে না। তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) বলেছেন, কার্ড ছাড়া যেন কোনো সাংবাদিক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ না করেন।

 

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

২৬ মার্চ ২০১৯ | 1323 বার পড়া হয়েছে

ভাইরাল হওয়া ছবিটি চকবাজারের নয়

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | 1257 বার পড়া হয়েছে

হিরো আলমের কপাল পুড়লো

০২ ডিসেম্বর ২০১৮ | 1247 বার পড়া হয়েছে

বহুমাত্রিক জীবন

১০ জুলাই ২০১৮ | 1173 বার পড়া হয়েছে

টেলি সামাদ না ফেরার দেশে

০৬ এপ্রিল ২০১৯ | 1169 বার পড়া হয়েছে

সেনাবাহিনীর ভয়ে লোটাস কামাল পলাতক

২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | 1133 বার পড়া হয়েছে

ড.কামালের অফিসে ডি এম পি কমিশনার

২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | 1058 বার পড়া হয়েছে

ফেসবুকে সাপ্তাহিক অন লাইন হাট এর আয়োজন

২৮ জুন ২০২০ | 1053 বার পড়া হয়েছে

শূণ্য আসগুলোতে বি, এন পি এর সমর্থন

২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | 1044 বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত সব ধরণের চ্যালেন্ঞ্জে

২৬ নভেম্বর ২০১৮ | 1014 বার পড়া হয়েছে

মাশরাফি এখন শাড়ির আঁচলে

২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | 996 বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের বার্তা

২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | 980 বার পড়া হয়েছে

আবাবিলে ছেয়ে যাক ভোটের আকাশ

২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | 979 বার পড়া হয়েছে

২০ দলীয় জোটের চুড়ান্ত বৈঠক আজ

০২ ডিসেম্বর ২০১৮ | 969 বার পড়া হয়েছে

আজ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস

১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | 962 বার পড়া হয়েছে

বসন্তের আগমন

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | 935 বার পড়া হয়েছে

যুবকেরাই পারে পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে

২২ ডিসেম্বর ২০১৮ | 932 বার পড়া হয়েছে

উপদেষ্টা সম্পাদক

হাফেজ মাওলানা সাহাদাত হোসাইন

মোহাম্মদ নুরে আলম

হাফেজ মাওলানা আব্দুল হাসিব চৌধুরী

লোকমান আহমেদ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক

চৌধুরী হাসান মাহমুদ

প্রধান সম্পাদক

গোলাম রব্বানী

নির্বাহী সম্পাদক

হাফিজুর রহমান নাহিদ

বার্তা সম্পাদক

তাজ উদ্দিন আহমাদ

বিভাগীয় সম্পাদক

শাহ মাসুম খাদেম

সিএম হাসান

সম্পাদনা সহযোগী

ফয়েজুল ইসলাম চৌধুরী

আশিকুর রহমান

এনামুল হাসান চৌধুরী

যোগাযোগ: উম আল ধম রোড, মাইজার, আল রাইয়্যান, কাতার। ফোন: +974.77664095, ই-মেইল: foursidenews@gmail.com

all right reserved

design and development by: webnewsdesign.com